মর্গান স্ট্যানলি অনুমান করেছে যে, ২০১৭ সালে গুগলের নতুন স্মার্টফোনটি কোম্পানিটির জন্য ৩.৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করবে। এই অনুমানটি করা হয়েছে গুগলের পিক্সেল ফোন বিক্রির সংখ্যার (৫ থেকে ৬ মিলিয়ন ইউনিট) প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে।
ব্যাংকটি জানিয়েছে যে, ২০১৬ সালের শেষ তিন মাসে গুগল ৩০ লাখ পিক্সেল ইউনিট বিক্রি করবে , যা থেকে আনুমানিক ২০০ কোটি ডলার রাজস্ব আয় হবে। এই কোম্পানিটি তার সার্চ ইঞ্জিন এবং বিশ্বের সর্বাধিক ইনস্টল হওয়া অপারেটিং সিস্টেমের মালিক হিসেবে বিখ্যাত।
তুলনা করলে দেখা যায়, অ্যাপল ২০১৭ অর্থ বছরে ২১২ মিলিয়ন আইফোন বিক্রি করে ১৩৭ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করেছিল। ২০১৬ সালের শেষ ত্রৈমাসিকে অ্যাপল ৪৫.৫ মিলিয়ন আইফোন বিক্রি করে ২৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করেছিল।

মর্গান স্ট্যানলি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তাদের অনুমান অনুযায়ী পিক্সেল ফোনটি গুগলের জন্য ততটা লাভজনক হবে না, যতটা অ্যাপলের জন্য আইফোন। এর কারণ হলো পিক্সেলের কাঁচামালের খরচ বেশি । পিক্সেল থেকে ২২ থেকে ২৫ শতাংশ মুনাফা হবে, যেখানে আইফোন ৭ থেকে তা ৪১ শতাংশে পৌঁছায়।
কিন্তু পিক্সেলের বিক্রির চেয়ে গুগল এর থেকে বেশি লাভবান হবে, যাকে মরগ্যান স্ট্যানলির বিশ্লেষকরা "অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী নগদীকরণ" বলে অভিহিত করেন। ব্যাংকটির বিশ্লেষকদের মতে, যদিও অ্যান্ড্রয়েডের তুলনায় আইওএস-এ অ্যাপ কেনাকাটায় তিনগুণ বেশি অর্থ ব্যয় হবে, পিক্সেলের কিছু বৈশিষ্ট্য এই ব্যবধান কমাতে সাহায্য করবে ।
পিক্সেলের কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য, যেমন গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, পিক্সেল ক্যামেরা এবং ডেড্রিম (ডিভাইসটির ভার্চুয়াল রিয়ালিটি), সেই সাথে স্মার্টফোনে অ্যাপগুলোর নিবিড় সমন্বয় এবং অ্যান্ড্রয়েড পে-এর নিজস্ব প্রাধান্য, ব্যবহারকারীদের অ্যান্ড্রয়েডের পেছনে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে উৎসাহিত করবে ।
এই একই বিশ্লেষকরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, এই বৈশিষ্ট্যগুলির ফলে গুগলের মোবাইল সার্চ ইঞ্জিনে পিক্সেলের বাণিজ্যিকীকরণ আরও বাড়তে পারে, কারণ বিজ্ঞাপনদাতারা সেইসব গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করবেন যারা তাদের স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটে বেশি খরচ করেন।